১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যে কোনো নাশকতা রোধে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
ইতিমধ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মীকে সারাদেশে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে একাই ৫৩ জনকে আটক করে পুলিশ, যারা ১৫ আগস্ট শোক দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা ও ঝটিকা মিছিলের পরিকল্পনায় জড়ো হয়েছিলেন এবং রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিলেন। তবে বড় ধরনের কোনো নাশকতার পরিকল্পনার তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, রাজধানীর সব প্রবেশমুখে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সোয়াত, বোম্ব ডিসপোজাল ও কে-নাইন ইউনিট মোতায়েন রাখা হয়েছে। ডিবি ও সিটিটিসির সদস্যরাও অপারেশনাল দায়িত্বে থাকবেন। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণি জানান, ঝুঁকি নেই এবং পর্যাপ্ত সদস্য মাঠে থাকবে। একই সঙ্গে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, যে কোনো অপতৎপরতা প্রতিরোধে তারা প্রস্তুত আছেন এবং প্রায় ৩৪ জনকে গ্রেফতার করেছেন, যাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের একজন প্রচার সম্পাদকও রয়েছেন।
সারা দেশে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে র্যাবও। নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী ও সন্দেহভাজনদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, তথ্য সংগ্রহে সোর্স ও ইনফরমার নিয়োগ করা হয়েছে, এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ঠেকাতে সাইবার নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ১৫ আগস্ট একটি স্পর্শকাতর দিন হওয়ায় সব ইউনিটই পৃথকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে এবং সতর্ক থাকবে। তবে বড় ধরনের আতঙ্কের কিছু নেই বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের সংবেদনশীল দিন নিয়মিতই আসে এবং তারা সেভাবেই তা মোকাবিলা করছেন।
newsco24.com সবার আগে সত্যের সাথে